ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নাদিয়া বেগম নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী কাওছার মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক। নিহত গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, তাকে যৌতুক বা পারিবারিক কলহের জেরে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রাম থেকে নাদিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নাদিয়া গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে হাতিখলা গ্রামের নূর চানের ছেলে কাওছার মিয়ার সঙ্গে নাদিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবারের লোকজন নাদিয়াকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। নাদিয়া বিষয়টি বারবার তার মা-বাবাকে জানালেও সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তারা মেয়েকে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিতেন।
নিহত নাদিয়ার মা ময়ফুল বানু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বুধবার দুপুরে নাদিয়া ফোন করে আমাকে জানিয়েছিল, সে কিছুক্ষণ পর আমাদের বাড়িতে আসবে। রাত ৮টার দিকে জামাই কাওছারের এক আত্মীয় ফোন করে নাদিয়া মারা গেছে বলে খবর দেয়। রাত ৯টার দিকে আমরা গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে নাদিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। সে সময় বাড়িতে অসংখ্য মানুষের ভিড় থাকলেও মেয়ে জামাই বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গফরগাঁও থানার পরিদর্শক মশিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, এই ঘটনায় নিহত নাদিয়ার মা ময়ফুল বেগম বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।